top of page
Untitled

Welcome to জয় শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর

Reaching Higher Ground

ঊনবিংশ শতাব্দী ভারতবর্ষের নবজাগরণের স্বর্ণযুগ। বহু বিশ্বরেণ্য মনীষী এই শতাব্দীতে আমাদের দেশে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীরামঠাকুর ঊনবিংশ শতাব্দীর ধর্ম জগতের এক উজ্জ্বল চরিত্র হয়েও কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের ছিলেন না। 

শ্রী রামঠাকুরেরে বাবার নাম রাঁধামাধব চক্রবর্তী।  তিনি ছিলেন মহাসাধক ও তান্ত্রিক প্রধান। ওনার পান্ডিত্যের উপাধি ছিল "বিদ্যালঙ্কার"। সমস্ত লোকেরা ওনার বাড়িকে বিদ্যালঙ্কার বাড়ি বলে সম্বোধন করতেন। শ্রী রামঠাকুরের বাবার বাড়ি বর্তমানে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলার পদ্মা নদীর পাড়ে প্রসিদ্ধ গ্রাম জপসাতে রয়েছে। এই গ্রামে যেমন অনেক ধনী লোকেদের বসবাস রয়েছে ঠিক সেমনি এই গ্রামে অনেক পন্ডিতরাও জন্মগ্রহণ করেছেন। পদ্মার কীর্তিনাশা গ্রাসে এই গ্রামের অনেক বাড়ি , অট্টালিকা সব ধংস হয়ে যায়।  রাধামাধব তখন ভিটেহারা হয়ে জপসা গ্রাম ছেড়ে ডিঙ্গামানিকে চলে আসেন।  

শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের মায়ের নাম কমলাদেবী। কমলাদেবীর ঠকুরদার নাম শ্রীকৃষ্ণ চক্রবর্তী। শ্রীকৃষ্ণ চক্রবর্তী ছিলেন রাজা রাজ বল্লবের দ্বার পুরোহিত।  শ্রীকৃষ্ণ চক্রবর্তীর তিন পুত্র সন্তান ছিল। সদানন্দ , গোপীকান্ত ও শিবচন্দ্র। সদানন্দের একমাত্র কন্যার নাম হলো কমলাদেবী যিনি হলেন শ্রী শ্রী রামঠাকুরের মাতা। কমলাদেবী প্রচন্ড স্নেহময়ী ছিলেন। ওনার আচার , ব্যবহার , ধর্মনিষ্ঠার কোনো তুলনাই হয়না। 


পদ্মার কীর্তিনাশার দরুন রাধামাধব জপসা গ্রাম ছেড়ে ডিঙ্গামানিক এসে সদানন্দের মেয়ে কমলাদেবীকে বিবাহ করেন এবং সদানন্দের সমস্ত স্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়ে সেখানেই বসবাস করতে শুরু করেন। রাধামাধব চক্রবর্তী একজন যোগসিদ্ধ পুরুষ ছিলেন।  তিনি তার বাড়ির পূর্ব দিকের রাস্তার পাশে একটি পঞ্চবটি যোগস্থান নির্মাণ করেন ও সেখানেই তিনি তার যোগাভ্যাস ও সাধনা করতেন। আর এই পঞ্চবটীতেই তিনি তার সাধনায় সিদ্ধিলাভ করেন। তিনি সব সময় সাধনায় মগ্ন থাকতেন।  যখন শ্রী শ্রী রামঠাকুর ওনার মাতৃজঠর থেকে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন সেদিনও শ্রীরাধামাধব তার সাধনাতেই মগ্ন ছিলেন। 

শ্রী শ্রী রাম ও লক্ষণ ঠাকুরের জন্ম :-

পদ্মানদীর পারে , ফরিদপুর জেলার ডিঙ্গামানিক গ্রামে শান্ত পরিবেশে ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ২রা ফেব্রূয়ারি , বাংলা ১২৬৬ সালের ২১ শে মাঘ, বৃহস্পতিবার , মাঘী শুক্লা দশমী তিথি ও রোহিনী নক্ষত্রে , শীতের দিনে বেলা ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে কমলাদেবী দুটি যমজ সন্তানের জন্ম দেন।  একজন শ্রী শ্রী রামঠাকুর ও আরেকজন হলেন লক্ষণ চক্রবর্তী। তাই সরস্বতী পুজোর ৪ থেকে ৫ দিন পরে শুক্লা দশমী তিথিতে , শ্রী শ্রী ঠাকুরের জন্মতিথি পুজোর অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। 


শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের জন্মগ্রহণের পর তাঁর মাতা কমলাদেবী খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কিছুক্ষন পরেই তিনি একটি মাংসপিন্ড প্রসব করেন। এই মাংস পিন্ডটি নষ্ট হওয়ার আগে শ্রী রাধামাধব পঞ্চবটি থেকে ছুটে এসে মাংস পিন্ড থেকে নিজের সন্তানকে বার করেন ও প্রাণ সঞ্চারের ব্যবস্থা করেন। এই সন্তানের নামই হলো শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের ভাই শ্রী শ্রী লক্ষণ ঠাকুর । 

শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর ও তাঁর ভাইবোনের পরিচয় :-
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরেরা ছিলেন  চার ভাই ও এক বোন। তারা হলেন কালীকুমার , কাশিমনি দেবী, জগবন্ধু এবং রাম ও লক্ষণ দুই যমজ ভাই।  
শ্রী শ্রী রাম ও লক্ষন ঠাকুরের মেলবন্ধন  :-
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর এবং তাঁর ছোট ভাই লক্ষণ ঠাকুর দুজনেই ছিলেন অবিবাহিত। দুই ভাইয়ের মধ্যে খুব মিল ছিল। লক্ষণ ঠাকুর , শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের খুব অনুগত ছিলেন।  দাদা যদি ওনাকে একবার ডাকতেন , সে যত কাজই থাক তিনি তাঁর দাদার কাছে সমস্ত কাজ ফেলে উপস্থিত হয়ে পড়তেন এবং দাদার সমস্ত নির্দেশ মাথা নত করে শুনতেন আর দাদার নির্দেশগুলি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতেন। 
ছোটবেলা থেকেই রাম-লক্ষণ দুই ভাই একসাথেই খেলাধুলো করতেন।  স্কুলে যেতেন।  স্কুলে ভর্তি করলেও দুই ভাইয়ের পড়াশুনোতে মন ছিল না। দুই ভাই সারাদিন খালি দেব দেবীর মূর্তি গড়তেন আর পুজো দিতেন। এতেই দুই ভাইয়ের মন ছিল। দুই ভাই রামায়ণ ও মহাভারত এর গল্প শুনতে খুব পছন্দ করতেন। বাড়ির কাউকে কিছু না জানিয়ে দুই ভাই সারাদিন সারারাত কীর্তন আসরে কাটিয়ে সকালে বাড়ি ফিরতেন।  বাড়ির লোক প্রথমে চিন্তা করলেও, পরে আর এই সব নিয়ে চিন্তা করতেন না।  
শ্রী শ্রী রাম ও লক্ষন ঠাকুরের আহারাদি :-
দুই ভাই জঙ্গল থেকে লতাপাতা এনে মাকে তা সিদ্ধ করে দিতে বলতেন। মা যতই ভালো মন্দ রান্না করে দিতেন দুই ভাই সেটা খেতে চাইতেন না।  তারা লতা পাতা সেদ্ধ খেয়েই থাকতেন। আর যদিও মাকে খুশি করার জন্য কিছু মুখে দিতেন তাহলে দুই ভাইয়ের বমি হয়ে পড়ে যেত। না খেয়ে থাকার অভ্যাসটা তারা ছোটবেলা থেকেই রপ্ত করে নিয়েছিলেন। 
শ্রী লক্ষন ঠাকুরের হরিভক্তি:-
শ্রী লক্ষণ চক্রবর্তী হরিভক্ত ছিলেন। হরি কীর্তন শুনলেই তিনি দিশেহারা হয়ে পড়তেন। বৈষ্ণব সেবা তাঁর পরম ধর্ম ছিল। বৈষ্ণব দেখলেই তিনি প্রসাদ পাওয়ার জন্য নিমন্ত্রণ করতেন। শ্রী শ্রী লক্ষণ ঠাকুরের সামনে যদি কেউ হরিবোল বলতো তাহলে তিনি অনেক্ষন বিহ্বল হয়ে পড়তেন।
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের ভ্রাতৃবিয়োগ :-
 ১৩২৪ সালের মরণ রোগ কলেরা তে শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর ওনার ভাই  শ্রী শ্রী লক্ষণ ঠাকুরকে হারান  
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের পিতৃ ও গুরুদেব বিয়োগ :-
শ্রী শ্রী রাম ঠাকুরের বাবার গুরুদেবের নাম ছিলেন মৃত্যুঞ্জয় ন্যায়পঞ্চানন।  গুরুদেব শিশু রামকে খুব স্নেহ করতেন।  রাম ও লক্ষণের মাত্র ৮ বৎসর বয়সে তাদের বাবা শ্রী রাধামাধবের দেহ রাখেন।  কিছুদিন পরেই রাধামাধব চক্রবর্তীর গুরুদেব খুব অসুস্থ হয়ে পড়েন।  কমলাদেবী তখন দুই পুত্র কে নিয়ে গুরুদেবকে দেখতে যান।  দুই ভাইয়ের সামনেই গুরুদেব শেষ নিঃশাস ত্যাগ করেন। প্রথমে পিতৃবিয়োগ এবং পরে গুরুদেবের ,এই দুই মৃত্যুই শ্রী শ্রী রামঠাকুরের মনকে বিচলিত করে তোলে।  শিশু রামের মনে এক বিশাল আলোড়নের সৃষ্টি হয়। 

Home: Welcome
Search
Check back soon
Once posts are published, you’ll see them here.
Home: Blog2

Accurate and Honest

This is your Feature description. Write a short blurb explaining what the feature is and why it matters for visitors, customers or clients. Don’t be afraid to toot your own horn! Take this opportunity to emphasize the important benefits or key advantages.

Contact
Untitled
Home: Feature
Home: Instagram

Subscribe Form

Thanks for submitting!

01558357766

Chittagong

  • Facebook
  • Twitter
  • LinkedIn

©2023 by জয় শ্রী শ্রী রাম ঠাকুর. Proudly created with Wix.com

bottom of page